নেপালে জেন জি আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৪
- আপডেট সময় ০৩:৩১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে

নেপালে জেনারেশন জেড তরুণদের নেতৃত্বে দুর্নীতি ও সেন্সরশিপবিরোধী আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর নিউ বনেশ্বর এলাকায় পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নেপাল সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আইন জারি করে। পাশাপাশি বাড়তে থাকা বেকারত্ব ও চাকরির বাজারে দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
এই তিন ইস্যুকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি— মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সরকারি দুর্নীতি বন্ধ করা, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ আইন বাতিল করা।
আন্দোলন দমনে পুলিশ প্রথমে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে চলে সরাসরি গুলি চালায়।
ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে ৭ জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়।
এভারেস্ট হাসপাতালে মারা গেছেন আরও ৩ জন; চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
সিভিল হাসপাতালে ২ জন, আর কে এম সি ও ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে মারা গেছেন প্রত্যেকে একজন করে।
নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
গুলির ঘটনার পর দেশজুড়ে আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে আন্দোলন। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সড়ক অবরোধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন, এবং মানববন্ধন কর্মসূচি চলছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে পুলিশের হামলার ভিডিও ও নিহতদের ছবি, যা তরুণদের ক্ষোভ আরও উসকে দিচ্ছে।
সরকারের সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত হবে না। দেশব্যাপী ধর্মঘট ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে পর্যায়ক্রমে।
প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রাজধানীতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া তরুণদের এই ‘জেন জি আন্দোলন’ নেপালের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনছে। তবে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগে দেশজুড়ে অস্থিরতা আরও বাড়বে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে নেপালি সমাজে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট








